চিত্রনায়িকা জাকিয়া মুনের মামলায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার স্বত্বাধিকারী আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। গত বছরের ২৩ মে চিত্রনায়িকা জাকিয়া কামাল মুন বাদী হয়ে আবদুল আজিজের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
জাকিয়া মুন অভিনীত ‘পাপ’ ছবিটি মুক্তি পায় ২০২৩ সালের ২২ এপ্রিল। জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে তৈরি এই ছবিতে মুন অভিনয় করেছেন জিয়াউল রোশানের বিপরীতে। মুনের মতে, একই প্রতিষ্ঠানের আরও দুটি ছবিতে তাঁর অভিনয়ের কথা ছিল। ছবি দুটির একটি ‘পাপ ২’, অন্যটি ‘বিলবোর্ড সুন্দরী’।
মামলার অভিযোগে বাদী জাকিয়া কামাল মুন উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান জহুরা ট্রেডিং করপোরেশনের সঙ্গে ‘পাপ’ নামক একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবি নির্মাণের জন্য একটি লিখিত চুক্তি হয় আসামি জাজ মাল্টিমিডিয়ার আবদুল আজিজের সঙ্গে। চুক্তি অনুযায়ী বাদীর নিকট থেকে আসামি এককালীন ৬০ লাখ টাকা নেন। চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী, সিনেমার শুটিংয়ের কাজ ২০২২ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। চুক্তিপত্রের শর্তানুযায়ী আসামি সবকিছু দেখাশোনা ও হিসাব রাখবেন। প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বাদীকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ হিসাব দেবেন। কিন্তু আসামি প্রোডাকশনের কাজ সম্পন্ন করার পর বাদীকে কোনো প্রকার হিসাব দেননি।
মামলার বাদী চিত্রনায়িকা জাকিয়া কামাল মুন অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, আসামি বাদীর বিনিয়োগ করা ও অভিনীত ‘পাপ’ সিনেমাটি দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে মুক্তি দেয়। সিনেমাটি ব্যবসা সফল হওয়ায় আসামি প্রায় কয়েক কোটি টাকা লাভ করেন। ‘পাপ’ সিনেমাটি নির্মাণের জন্য বাদীর কাছ থেকে ৬০ লাখ টাকা ২০২২ সালের ৩০ জুন আসামির ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও দেননি। এমনকি সিনেমাটি ব্যবসা সফল হওয়ার পরও বাদীকে কোনো প্রকার লভ্যাংশ প্রদান করা হয়নি।
পরবর্তীকালে বাদী আসামির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং তাঁর বিনিয়োগ করা টাকা প্রদানের জন্য বলেন। আসামি তাতে মোটেও সাড়া দেননি। বর্তমানে আসামি বাদীর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁর বিনিয়োগ করা সব টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।
এ ছাড়া পরবর্তী সময় বাদী ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারেননি, যা বাদীর ক্যারিয়ারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চুক্তিপত্রে উল্লেখিত সময়ে টাকা ও লভ্যাংশ প্রদান না করে এবং প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করতে না দিয়ে আসামি অপরাধসহ বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন, যা ৪০৬/৪২০/৫০৬ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
জাকিয়া কামাল মুন প্রথম আলোকে আজ বুধবার বলেন, ‘মামলার পর আবদুল আজিজ ভাই আপসনামা করতে চেয়েছিলেন। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং চুক্তিমতো কাজ করার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আবার উধাও। কোনো খোঁজখবর নেই। আমার মনে হয়েছে, তিনি একের পর এক মিথ্যা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। আমার টাকা ফেরত তো দেননি, উল্টো বিভিন্ন প্রযোজককে তিনি বলে দিয়েছেন আমাকে যেন কোনো সিনেমায় না নেওয়া হয়।’